Saturday, August 6, 2016

হাঁস পালন করে সাভলম্ভী

রাম উত্তর বড় ভিটা। নিলফামারির কিশরগঞ্জে বড় ভিটা ইউনিয়নের ছোট একটি গ্রাম। ছিমছাম গ্রামটির উপর দিয়ে বয়ে গেছে বৃহত্তম তিস্তা প্রকল্পের প্রধান সেচ খাল। বিস্তীর্ণ ঐ খালের পাশে পাকা সরক। সড়কে পথ চলতে দেখা যায় সেচ খালের মুক্ত ঝলাশয়ে এক ঝাক হাঁস। দেখলে মনে হবে এটি যেন হাসের রাজ্য। সেখানে শুধু তাদের সুশৃঙ্খল রাজত্য। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় হাসের দল ঘুরে বেড়াচ্ছে স্বচ্ছ জলে। হাঁসের পালটির মালিক গ্রামের খলিলুর রহমান। তিন বছর আগে তিনি হাঁস পালন শুরু করেছিলেন। তাঁর দেখাদেখি অনেকে আগ্রহী হয়ে সেচ খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে হাঁস পালন শুরু করেছে। এতে ঐ গ্রামের অনেকের সংসারে সবচ্ছলতা এসেছে।

 এ ব্যপারে খলিলুর রহমান জানিয়েছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের বড়ভিটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরি করেন তিনি। চাকরির পাশাপাশি তিন বছর ধরে হাঁস পালন করেন তিনি। তিনি আরো জানান , তিন বছর আগে সখের বসে ৫০০ হাঁস পালন করেন তিনি। ঐ হাঁস থেকে এক বছের তিনি লাভ করেন তিন লক্ষ টাকা। সেই থেকে বানিজ্যিক ভাবে হাঁস পালনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। বর্তমানে ওই সেচ খালের পাশে তাঁর বাবার একখন্ড জমিতে শেড নির্মাণ করে ডিমের জন্য হাঁস পালন করছেন। বর্তমানে প্রতিদিন ১৫০ মত ডিম পান। কিছুদিনের মধ্যো এক হাজার দুইশ থেকে এক হাজার তিনশ ডিম পাওয়ার আশা করছেন। এসবের দেখা শোনা ও পরিচর্যার জন্য নিয়মিত ২ জন শ্রমিক কাজ করে। চাকরির পাশাপাশি তিনি সময় দেন তাঁর আদরের পালিত হাঁসের দলকে। এক বছরের মধ্যো হাঁসের খামার থেকে তাঁর আয় ১০ লক্ষ টাকারও বেশি হবে বলে আশা করছেন তিনি। চার সন্তানের জনক খলিলুর রহমানের মেয়ে এবং এক ছেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংজিনিয়ারিং পড়ছে। হাঁস পালনের খরচ দিয়েই চলছে তাদের লেখা পড়ার খরচ।

একই ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের রণজিৎ কুমার রায় পেশায় শিক্ষক । তিনি বলেন তাঁর খামারে রয়েছে ৩০০ হাঁস। তিনি বলেন খলিল ভাইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে খামার গড়েছি। তাঁর খামার দেখে এলাকার অনেকেই আগ্রহী হয়ে ছোট আকারের খামার গড়েছে।  উত্তর বড় ভিটা গ্রামের গৃহবধূ বসন্তীরায় বলেন , আগে এত হাঁস ছিল না গ্রামে। তাঁদের দেখে আমি গরীব মানুষ হয়েও বাড়িতে ১০ টি হাঁস পালন করতে শুরু করেছি।
সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

No comments:

Post a Comment