Saturday, August 6, 2016

কবুতরের আয় দিয়েই চলে সংসার-পড়াশোনা !

নারায়নগঞ্জের আড়াইহাজারে কবুতর পালন করে দুই শতাধিক লোক জীবন-জীবিকা নির্বাহের পথ খুজে পেয়েছে। পড়াশোনা শেষ করে চাকরীর পেছনে না ঘুরে বাড়িতে শান্তির প্রতিক কবুতর পুষে সচ্ছল হয়েছেন তারা । ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই এলাকায় কবুতরের নতুন নতুন খামার গড়ে উঠেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীও অবসর সময়ে কবুতর পালন করে পড়াশোনার খরচ জোগাচ্ছেন এবং পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা করছেন। উপজেলা প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর পালন করছেন দুই শতাধিক ছোট-বড় খামারি। এর মধ্যে ফরসিদ মিয়া একজন সফল খামারি। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে বড় হওয়ার। কিন্তু সংসারের পিছুটানে সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি। এইচএসসি পাস করার পর তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। জড়িয়ে পরেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের সঙ্গে।

ব্যবসায়ের পাশাপাশি শখের বসে বাড়িতে কয়েক জোড়া কবুতর পালন করতেন ফরসিদ। পরে স্থানীয় এক খামারীর পরামর্শে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কবুতর পালন করে সংসারের অভাব দূর করেন। আড়াইহাজার পৌঢ়সভার বাসিন্দা ফরসিদ জানান, ২০১২ সালে প্রথমে তিনি শখের বসে ২০ জোড়া কবুতর পালন শুরু করেন। কবুতর পালনে স্বল্প পুজিতে অধিক লাভ। পড়ে তার খামারে উৎপাদিত বাচ্চা দিয়েই ধীরে ধীরে পরিধি বাড়াতে থাকেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন জাতের কবুতর কিনে নিয়ে আসেন। বর্তমানে তার খামারে দেশি-বিদেশি সহ ৫০০ জোরা কবুতর রয়েছে। এর মধ্যে কিং, ম্যাগপাই, রেচিং, বাগদাদি, হোমার, সিরাজি, ঘিরিবাজ, নান, শর্টপিচ, টগা, ছোঁয়া, চন্দন, কাপ্তান, হলুদ ময়ূরী, চোয়ানগুলি, গিয়াসঝুলি, কালামুখী, লটন, চকলেটমুখী, লাল-ডাউখা উল্লেখযোগ্য।
 তিনি জানান, কবুতর পালন করে সংসার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের স্কুল কলেজে পড়ালেখা করাচ্ছেন। প্রতিমাসে কিছু টাকা সঞ্চয় করছেন। কবুতরের অপর সফল খামারি স্বপন জানান, ভালো জাতের কবুতর মাসে একজোড়া বাচ্চা উৎপাদন করে থাকে। এক জোড়া বাচ্চা বিক্রি করা হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। তার খামারে ২০০ জোড়া কবুতর রয়েছে। কবুতরের রোগবালাই কম। তাই লাভজনক মনে করে অনেকেই এই পেশায় জড়িত হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে কবুতরের বাচ্চা ও ডিমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয় পাইকার ও ফড়িয়ারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে বিভিন্ন বয়সের বাচ্চা ও ডিম খামার থেকে কিনে নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করছেন। মিজান নামের আরেক কবুতর ব্যবসায়ী জানান, আড়াইহাজারে বিভিন্ন জাতের কবুতর পালন করে শত শত বেকার যুবক তাদের ভাগ্য বদল করছেন। শখের কবুতর পরিনত হয়েছে অর্থ উপার্জনের উৎস। বেকার জীবনে ২০১৩ সালে পার্শ্ববর্তী গোপালদী বাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে দুই জোড়া দেশি কবুতর কিনে আনেন। লাভজনক হওয়ায় কবুতর পালন করার জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচে ৩০০ খোপের একটি ঘড়ও তৈরি করেন।
 তিনি আরও বলেন, খোপগুলো পূর্ণ করার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে ২০০ জোড়া কবুতর সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি তার নিজের খামারে উৎপাদিত বাচ্চা বড় হয়ে বর্তমানে ৩০০ জোড়া কবুতর রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমাসে তার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। একই ধরনের কথা জানান, শফিকুল। ২০১০ সালে প্রথমে তিনি ১২ জোড়া বিভিন্ন জাতের কবুতর দিয়ে শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে ২০০ জোড়া কবুতর রয়েছে। লাভজনক হওয়া কবুতর পালনকে তিনি পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় বাজারগুলোতে কবুতরের বাচ্চা ও ডিম বিক্রি করে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে তার। আড়াইহাজার উপজেলা প্রানীসম্পদ অধিদফতরের কর্মকর্তা ডাক্টার মোঃ ফারুক আহমেদ বলেন, আমার জানামতে আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক কবুতরের খামার রয়েছে। রোগবালাই কম হওয়ায় অনেকে শখের কবুতর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পালন করে লাভবান হচ্ছেন। তিনি বলেন, কবুতরকে বছরে একবার কৃমিনাশক খাওয়াতে হয়।

No comments:

Post a Comment