২ লাখ ৬০
হাজার টাকায় সাতটি এঁড়ে গরু কিনেছিলেন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। খামারি ইব্রাহিম ও
স্ত্রী রুমিজা বেগম পাঁচ মাসে ধরে পরিচর্যা করায় সেগুলো এখন তরতাজা হয়ে
উঠেছে। কোরবানির বাজারে ভালো দামে তা বিক্রি করার আশা করছেন। লাভের টাকা
আবারো বিনিয়োগ করে বড় খামার করার স্বপ্ন দেখছেন এ দম্পতি।
যশোর শেখহাটি গ্রামের মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, তিনি আগে রিকশার ব্যবসা
করতেন। কিন্তু অটোবাইক নামায় রিকশার ব্যবসায় মার খান। পরে ওই ব্যবসা বাদ
দিয়ে গরু পালন শুরু করেন। এখন কোরবানির বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে দেশী গরুর
চাহিদা বেশি। এবার গরু বিক্রি করে তার কমপক্ষে ১ লাখ টাকা লাভ হবে। ওই টাকা
আবারো বিনিয়োগ করবেন। তিনি খামারটি বড় করতে চান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু ইব্রাহিম ও রুমিজা দম্পতি নয়, জেলায় এবার
কোরবানি উপলক্ষে খামারিরা প্রায় ২৫ হাজার গরু ও ৯০ হাজার ছাগল পালন করেছেন।
অধিকাংশ খামারিই ক্ষুদ্র পুঁজির মালিক। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গচ্ছিত
পুঁজি গরু-ছাগল পালনে বিনিয়োগ করেছেন। খামারিরা জানান, ভারতের গরু আমদানি
কমলে দেশীয় গরুর খামার আরো বৃদ্ধি পাবে। খামারিরাও লাভবান হবেন। দেশের
অর্থনীতি হবে মজবুত।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, ঈদে এবার জেলায় ২৫ হাজার গরুর চাহিদা
রয়েছে। জেলার আট উপজেলায় ১০ হাজার ১৭৩টি গরুর খামার রয়েছে। প্রায় ২৭ হাজার
গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তাছাড়া জেলায় ১৪ হাজার ৫৪১টি খামারে
৬৩ হাজার ৫৬৪টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। তবে সদরে সবচেয়ে বেশি
খামার রয়েছে। এর পর ঝিকরগাছা, শার্শা, মনিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর,
বাঘারপাড়া এবং চৌগাছা উপজেলায়ও কয়েক হাজার খামারে ঈদ উপলক্ষে গরু ও ছাগল
পালন করা হয়েছে। এখন পশু খামার লাভজনক হওয়ায় খামারের আয়তন বাড়ছে।
সম্প্রসারণও হচ্ছে।
রুমিজা বেগম জানান, তিনি পরিমাণ মতো খৈল, ভুসি, খুদের ভাত, বিচালি এবং
কাঁচা ঘাস খাইয়ে গরুগুলো তরতাজা করেছেন। আর ওষুধ বলতে ক্রিমিনাশক খাইয়েছেন।
তারা খামার করার জন্য কোনো ঋণ পাননি।
অভয়নগরের গাজীপুর গ্রামের খামার মালিক জাহিদ হাসান শেখ জানান, তার
খামারে ১৫টি গরু কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য পালন করেছেন। তবে গরুর দাম পাওয়া
নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন। ভারতের গরু আমদানি বন্ধ থাকায় লাভের আশায়
ছিলেন। এখন ভারত থেকে গরু আমদানির অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে। গরু আমদানি শুরু
হলে দেশী গরুর দাম পড়ে যাবে বলে
তিনি জানান।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, জেলায় প্রায় ২৫
হাজার খামারি এবার কোরবানির ঈদের জন্য গরু-ছাগল পালন করছেন। তারা ভালো দাম
পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। ভারত থেকে স্থায়ীভাবে গরু আমদানি বন্ধ হলে স্থানীয়
খামারিরা আরো উদ্বুব্ধ হবেন। দেশে কর্মসংস্থানও বাড়বে। তিনি আরো জানান,
এবার ঈদে গরু-ছাগলের সংকট হবে না। যশোর অঞ্চলে ভারতীয় গরু না এলেও কোনো
প্রভাব পড়বে না। জেলায় চাহিদার অতিরিক্ত গরু ও ছাগল পালন করা হয়েছে।
অন্যান্য জেলার বাজারেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
No comments:
Post a Comment