Wednesday, August 10, 2016

শার্শায় ১৪শ’ খামারে চলছে কোরবানির গরুর পরিচর্যা

মাথার উপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা, নিচে কার্পেট বিছানো। খাবারের তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য। সার্বক্ষণিক চলছে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরণের পরিচর্যা।

এ আয়োজন বেনাপোল বাজার থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে পুটখালী গ্রামের পশ্চিম পাড়ার একটি গরুর খামারে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে যশোরের শার্শা-বেনাপোলের অন্তত ১৪০০ খামারে এভাবেই আদর-যত্নে লালিত হচ্ছে লাখো গরু।

২৪ ঘণ্টা এমন পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এসব খামারে বেড়ে ওঠা গরুগুলোও হয়ে উঠছে হৃষ্টপুষ্ট ও সুন্দর।

জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আসা কমে যাওয়ায় যশোরের ভারত সীমান্তবর্তী শার্শায় কোরবানির ‌ঈদকে সামনে রেখে ১৪০০টির মতো গবাদি পশুর খামার গড়ে উঠেছে।

পুটখালী গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ৭ বছর আগে এ ‍গরুর খামার গড়ে তোলেন স্থানীয় বাসিন্দা নাসির।

শুরুর দিকে এ খামের অল্পসংখ্যক গরু থাকলেও এখন গরুর সংখ্যা প্রায় ২০০টি। এসব গরুর পরিচর্যার জন্য রয়েছে ২৫ জন কর্মচারী।

খামার মালিক নাসির জানান, তার এ খামারে প্রতিটি গরুর মুল্য সর্বনিম্ন ২ লাখ টাকা থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি গরুর ওজন ২০ থেকে ২২ মণের মতো। এটিকে তিনি দেশের সর্ববৃহৎ গরু খামার বলেও দাবি করেন। 

এ খামারে গরু ছাড়াও কিছুসংখ্যক উট ও ছাগল পালন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

খামার মালিক নাসির আরও বলেন, ভারতীয় গরু আসা কমে যাওয়ায় এখন তিনি এ খামার ব্যবসায় জোর দিয়েছেন। বর্তমানে তার ২টি খামার রয়েছে। সন্তানের মত খেয়াল রেখে খামারে গরু লালন-পালন করেন।

তিনি জানান, কিছু ভারতীয় গরু আর গ্রাম-গঞ্জ থেকে কিছু কিনে পরবর্তীতে ৫ থেকে ৬ মাস ধরে নিজ খামারে তা যত্ন নিয়ে পালন করেন তিনি। আগামী কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গত ১৫ দিনে তার খামারের ১০০টি গরু দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়েছে। এতে তার ভালোই মুনাফা হয়েছে।  

তবে তার অভিযোগ, অনেক সময় গরুর সমস্যা দেখা দেয়। তখন পশু সম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের জানানো হলে তারা খামারে আসতে চান না। গরু খামার ব্যবসায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেকেই এ পেশায় আসতে উৎসাহিত হবেন বলে জানান তিনি। 

উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা জয়দেব সিংহ বাংলানিউজকে বলেন, শার্শা উপজেলাধীন বেনাপোলসহ ১১টি ইউনিয়নে ১৩৮০টি গরুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে ১২৩০টি মোটা-তাজাকরণ খামার আর ১৫০টি গাভীর ছোট-বড় খামার রয়েছে। তার জানা মতে পুটখালীর নাসিরের গরু খামারটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় গরু খামার। তিনি কয়েকবার সেখানে গিয়েছেন।

খামার ব্যবসায়ীদের সহায়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার গরু খামার ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করতে গত জুনে প্রত্যেক খামারিকে ৫ শতাংশ সুদে ৪০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে। কিছুদিনের মধ্যে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।

এদিকে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, ৬ মাস আগেও বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে সাড়ে ৩ থেকে ৪ হাজার গরু আসতো। কিন্তু ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ( (বিএসএফ) কড়াকড়িতে এখন এর পরিমাণ কমে ১০০-১৫০ তে দাঁড়িয়েছে। ফলে আগে যে গরুর দাম ৪০ হাজার টাকা ছিল এখন তা বেড়ে লাখ টাকার বেশি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment