সংবাদ প্রতিদিন: তিনটি বিদেশি জাতের গাভি থেকে প্রতিদিন ২২-২৪ লিটার দুধ
মিলছে। শীতে কম হলেও গরমের মৌসুমে দুধ হবে ৩০-৩৫ লিটার। এই দুধই ঘুরিয়ে
দিয়েছে ভাগ্যের চাকা, জানালেন টেংরা গ্রামের ফাতেমা বেগম।যশোরের শার্শা
উপজেলায় দুধ বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন ফাতেমার মতো হাজারো খামারি, বদলে
গেছে তাদের জীবনযাত্রা।
এসব খামারের দুধ ব্র্যাক ও মিল্কভিটার প্রক্রিয়াকরণ কারখানাসহ বিভিন্ন
অঞ্চলের মিষ্টির দোকানে যাচ্ছে।গোবর থেকে তৈরি হচ্ছে ‘বায়োগ্যাস’ ও
‘কম্পোস্ট’ সার। বায়োগ্যাসে চলছে রান্নাবান্নার কাজ আর কম্পোস্ট সার
ব্যবহৃত হচ্ছে কৃষিজমিতে।
শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরজমিনে দেখা গেছে গাভি পালনের এই চিত্র।
যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের পাশে উলাশি বাজারের পাশে তুহিনা বেগমের গরুর
খামার। তার আছে ১৫টি গরু। প্রতিদিন দুই দফায় ১৩০ লিটার দুধ পান তিনি।
তুহিনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১২ বছর আগে ১২ হাজার টাকা
দিয়ে একটি গাভি কিনে এই ব্যবসায় আসি। এক সময় দুধ বেচতে বেগ পেতে হতো। এখন
আর সমস্যা হয় না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লোক বাড়ি থেকে দুধ নিয়ে যায়।”
প্রতি লিটার দুধ ৪০ থেকে ৫৫ টাকা দরে বিক্রি হয় বলে তুহিনা জানান।
বারিপোতা গ্রামের খামারি নাসিমা খাতুন বলেন, “প্রতিদিন সব খরচ বাদে ১০টি
গাভির দুধ বেচে দেড় হাজার টাকা আয় হচ্ছে। আর গোবর থেকে তৈরি বায়োগ্যাস
ব্যবহার করছি রান্নার কাজে।”
এছাড়া কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন কৃষিজমিতে। এই খামার করেই নাসিমার সংসারে সচ্ছলতা এসেছে বলে তিনি জানান।
খামারিরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের মাংসের চাহিদা মেটাতে পারবেন বলে মনে করেন তুহিনা।
বারিপোতা গ্রামের খামারি সাইদুল ইসলাম জানান, বছর তিনেক আগে ১৭ হাজার
টাকায় একটি গাভি কিনে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। এখন তার খামারে গাভি রয়েছে
নয়টি। প্রতিটি গাভি থেকে দৈনিক ৮-১০ কেজি দুধ পাওয়া যায়।
ত্রিমোহিনী শ্যামলাগাছির আশানুর রহমান, সাদিকুর রহমান, বারিপোতার সাইদুল
ইসলাম, কামরুল ইসলাম, শার্শার সমর সরকারের খামারে গিয়ে দেখা গেছে, গরুর
মাথার উপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা, নিচে ম্যাট বিছানো। মশা-মাছির উৎপাত থেকে
রক্ষার জন্য টাঙানো রয়েছে মশারি।
২৪ ঘণ্টা পরিচর্যা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণের কারণে এসব খামারের গাভিগুলো হৃষ্টপুষ্ট।
টেংরা গ্রামে দেখা গেছে, লিপি বেগম, সখিনা খাতুন, মিনা আক্তার, ফাতেমা
বেগম, আলেয়া খাতুনসহ প্রায় অর্ধশত নারী একটা-দুইটা করে গাভি পালন করে সংসার
চালাচ্ছেন।
মিল্কভিটা ডেইরি ফার্মের নাভারন শাখার ব্যবস্থাপক আবু হানিফ বলেন,
“খামারিদের কাছ থেকে দুধ কিনে আমরা প্রতিদিন ঢাকায় পাঠাচ্ছি। সেখানে
প্রক্রিয়াজাত শেষে প্যাকেট করে এই দুধ বাজারে সরবরাহ করা হয়।”
ফ্যাট অনুযায়ী খামারিরা প্রতি লিটার দুধের দাম ৩৫ থেকে ৬০ টাকা করে পান বলে এই ব্যবস্থাপক জানান।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জয়দেব “উপজেলায় ১ হাজার ৪২টি
তালিকাভুক্ত গরুর খামার রয়েছে। এর মধ্যে ২২৬টি খামারে বিদেশি ফ্রিজিয়ান
জাতের প্রায় ২০ হাজার গাভি পালন করা হচ্ছে।”
এছাড়া উপজেলার ১৮০টি গ্রামের সব কটিতে গড়ে ২০-৩০টি পরিবার একটি-দুটি করে গাভি পালন করে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা।
No comments:
Post a Comment