Thursday, August 11, 2016

যশোর খাজুরার আরিফের লেয়ার ফার্ম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির হাতিয়ার

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করে আরিফ ২০০৬ সালে একটি লেয়ার ফার্ম করেছিলেন। তখন তার এ কাজটি কেউ সমর্থন করেননি। পরিবার প্রতিবেশি সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন। তাদের মন্তব্য ছিল আরিফ চাকরি করলে মান-মর্যাদা বৃদ্ধি পেত।

চার বছর পরের ঘটনা ২০১১ সালের দৃশ্যপট অন্য রকম। যে আরিফকে সবাই চাকুরে হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন সে আরিফ এখন মানুষকে চাকরি দেন। তার ফার্মে ৫০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন এ ফার্মে ১৭ হাজার ডিম উৎপাদন হয়। পাইকারি হিসেবে প্রতিটি পাঁচ টাকা দরে বিক্রি করে প্রতিদিন আসে ৮৫ হাজার টাকা। যাবতীয় খরচ মিলে একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে চার টাকা। ডিম প্রতি এক টাকা হিসেবে তার লাভ থাকে প্রতিদিন ১৭ হাজার টাকা। আরিফের লেয়ার ফার্ম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। 

আরিফুল আলম আরিফ যশোর শহরের বাসিন্দা। তিনি জানান, সব শ্রেণীর মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে এমন একটি জিনিস উৎপাদনের কথা ভাবতে ভাবতে লেয়ার ফার্ম করার বিষয়টি তার মাথায় আসে। তিনি ২০০৬ সালে চার হাজার মুরগি নিয়ে প্রথমে যশোর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা রোডের খাজুরায় দু'বিঘা জমি কিনে লেয়ার (ডিম পাড়া মুরগি) ফার্ম স্থাপন করেন। তার মায়ের নামে নাম দেন মাজেদা ফার্ম লিমিটেড। যাত্রার শুরুতেই এর সফলতা তাকে আশান্বিত করে। ২০০৮ সালে তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার দুর্গাপুরে ১৭ বিঘা জমি নিয়ে গড়ে তোলেন বৃহদাকার ফার্ম। এটি যশোরের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফার্ম বলে তিনি দাবি করেন। 

মাজেদা ফার্মে বর্তমানে ১৭ হাজার লেয়ার মুরগির সবগুলোই ডিম দিচ্ছে। ফার্ম সূত্রে জানা গেছে, একদিন থেকে পাঁচ মাস বয়স পর্যন্ত পালনের পর একটি লেয়ার মুরগি ডিম পাড়ার উপযোগী হয়। এ পাঁচ মাসে মুরগি প্রতি খরচ হয় ৫শ' টাকা। পাঁচ মাস থেকে একটি মুরগি তের মাস ধরে এক নাগাড়ে ডিম দেয়। ডিম পাড়া অবস্থায় শ্রমিক, ওষুধ, খাদ্য, বিদ্যুৎ প্রভৃতি খরচ মিলে একটি মুরগির পেছনে প্রতিদিন চার টাকা খরচ পড়ে। ডিম পাড়া বন্ধ হলে ওই মুরগি প্রতিটি কমপক্ষে ২০০ টাকা দামে বিক্রি হয়ে যায়। 

আরিফুল আলম জানান, ৩০ হাজার মুরগি পালনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ফার্মটি সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত চলছে। এ জন্য বিনিয়োগ করা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার মুরগির ডিম উৎপাদন শুরু হয়েছে। আরও ১৩ হাজার মুরগি পালনের জন্য ১৫ হাজার বর্গফুটের সেড তৈরি করা হচ্ছে। পুরো কাজ শেষ করতে লাগবে সাত কোটি টাকা। কাজ শেষ হলে ফার্মে প্রতিদিন দেড় লাখ ডিম উৎপাদন হবে। সমুদয় খরচ বাদে এ থেকে প্রতিদিন লাভ থাকবে ৩০ হাজার টাকা। ওই সময় ১০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। 

লেয়ারের বিষ্ঠা দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ চলছে। এটির কাজ শেষ হলে এখানকার উৎপাদিত গ্যাসে ২৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংক কারিগরি সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আরিফুল আলম জানান, ফার্মটির জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে এ ব্যাপারে নূ্যনতম সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। উৎপাদনমুখী ও কর্মসংস্থানমূলক এ ফার্মে আর্থিক সহযোগিতার জন্য তিনি ব্যাংক ঋণের দাবি জানিয়েছেন। এ জন্য বিভিন্ন ব্যাংকে দৌড়ঝাঁপও করেছেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো থেকে সাড়া মেলেনি।

No comments:

Post a Comment