পোলট্রি ফার্ম আর মাছ চাষ করে ১৪ বছরে ফেরদৌস এখন সাভলম্বী। শুধু সাভলম্বী
নন, এক সময়ের বেকার যুবক ফেরদৌস বর্তমানে এলাকার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
সাভলম্বী হয়ে তিনি প্রমান করে দিয়েছেন অদম্য পরিশ্রম আর লক্ষ্য যদি স্থির
থাকে তাহলে সবই স্মভব। মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের জয়াইর
গ্রামের আবদুল খালেক হাওলাদারের বড় ছেলে ফেরদৌস। মা ছালেহা বেগম ছোট বেলায়
ফেরদৌসকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এ ছেলে মানুষ হবে না কোনো দিন। ফেরদৌস ২০০০
সালে কোনো রকম এসএসসি পাশ করেন।ছাত্র হিসেবে সে কোনৃদিনই ভালো ছিল না।
এসএসসি পর্যন্তই তার লেখাপড়া শেষ।লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে মস্তফাপুরে একটি
ইলেক্ট্রনিক্স দোকানে কাজ শিখতে যান ফেরদৌস। কিন্তু এ কাজে তার মোন বসে না।
শুরু হয় বাউন্ডেলে জীবন। হঠাৎ একদিন রপ্রশিক্ষনলব্দ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে
যুবউন্নয়ন অধিদফতর থেকে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা্ ঋন গ্রহন করেন তিনি।
এরপর ওই টাকাকে পুজি করে প্রথমে চারটি পুকুর লিজ নিয়ে প্রাথমিকভাবে মাছ চাষ
ও একটি পোলট্রি ফার্ম দিয়ে প্রকল্প শুরু করেন। ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে তার
প্রকল্পের পরিধি। ফেরদৌসের স্ত্রী স্বপ্না প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন
শিক্ষিকা। মাস শেষে বেতনের পুরো টাকা তুলে দেন স্বামীর প্রকল্পের জন্য।
তিনিও চাকরির অবসরে প্রকল্পের বিভিন্ন কাজ দেখাশোনা করতেন। দুই বছরের মধ্যে
১৩ টি পুকুরে বিভন্ন জাতের মাছ চাষ করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন ফেরদৌস।
একই সঙ্গে তিনি পাচটি পোলট্রি ফার্মে মুরগি পালন শুরু করেন। এতে
অর্থনৈতিকভাবে আরও লাভবান হতে থাকেন তিনি। এরপর তাকে আর পিছনে তাকাতে হ্য়
নি।বর্তমানে তার ১৩ টি পুকুর, পাচটি পোলট্রি শেড, একটি রাইস মেইল, একটি গরু
মোটাতাজাকরন ফার্ম, একটি বাউকুল বাগান ও পাচটি দুগ্ধবর্তী গাভী। তার
ফার্মে পাচ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আলাপকালে ফেরদৌস হাওলাদার
জানান, তিনি ফরিদপুর ভিক্টর হ্যাচারি থেকে এক দিনের কক মুরগির বাচ্চা ও
যশোর বিভিন্ন স্থান থেকে এক দিনের ব্রয়লারের বাচ্চা এনে সেগুলো প্রতিপালন
করে প্রতি মাসে বিক্রি করে থাকেন।
এছারা বিভিন্ন জাতের পোনা আনেন
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে। ফেরদৌসের চাষ করা রুই,
কাতলা,মৃগেল,পুটি,থাইপুটি,ব্লাককার্প,গ্লাসকার্প,কৈ,শিং,তেলাপিয়া,মিনারকার্প,সিলভারকার্প
,পাঙ্গাস্,চিতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মস্তফাপুর , মাদারীপুর, ফরিদপুরের
ভাঙ্গার বিভিন্ন আড়তে বিক্রি হয়। শুধু শিং মাছ ঢাকার কাওরান বাজারে
রপ্তানি করা হয়। অন্যদিকে পোলট্রি ফার্মের মুরগি স্থানীয় চাহিদা পূরন করেও
ঢাকার বিভিন্ন আড়তে রফতানি করা হয়।
আজ বাবা মায়ের গর্বিত সন্তান বেকার ফেরদৌস। তিনি অন্য বেকার যুবকদের
সাভলম্বী হওয়ার অনন্য দৃষ্টান্ত। তাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করে এ অঞ্চলের বেকার
যুবকরাও আত্মনির্ভরশীল হতে পারেন।
No comments:
Post a Comment