Wednesday, August 17, 2016

সাতক্ষীরায় কোয়েল পাখি পালনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন পোল্ট্রি খামার মালিকারা

সাতক্ষীরা জেলায় ব্যাপক ভাবে কোয়েল পাখি পালন হচ্ছে। জেলায় শতাধিক খামার মালিক এখন কোয়েল পাখির খামার তৈরি করেছেন। । অনেক পোল্ট্রি খামার মালিকারা বছরের পর বছর লোকসান খেয়ে তারা কোয়েল পাখি পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কোয়েল পাখির ডিম জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায় রপ্তানী হচ্ছে। কোয়েল পাখির মাংশ ও ডিমে পুষ্টিগুন বেশি হওয়ায় এর চাহিদা ও বেড়েছে ব্যাপক ভাবে। এক হালি ডিমের দাম ৭-৮ টাকা। প্রতিদিন ৫থেকে ৬হাজার ডিম বিক্রি হচ্ছে। কোয়েল পাখির সংক্রামক রোগ কম থাকায় এটি পালনে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর সুত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সুলতানপুর বড় বাজারের কোয়েল পাখি ও ডিম ব্যাবসায়ী সোহাগ মুন্নী এন্টারপ্রাাইজ এর মালিক মনিরুজ্জামান মনি জানান, তিনি ৫ বছর ধরে কোয়েল পাখি পালন করছেন। অল্প পুঁজিতে অধিক লাভবান হওয়ায় দিন দিন এটির চাহিদা বাড়ছে। তার বাড়িতে প্রায় ১০০০টি কোয়েল পাখি পালন হচ্ছে। একটি কোয়েল পাখি বড় হতে ৬-৭ সপ্তাহ সময় লাগে। এরপর একটানা তারা ১৮ মাস ডিম পাড়ে। তিনি আরও বলেন একটি বাচ্চা কিনতে ৬ থেকে ৭ টাকা খরচ লাগে। খরচ কম হওয়ার কারণে এবং সংক্রামক রোগ কম হওয়ায় জেলা শহর ছাড়া বিভিন্ন উপজেলা শহরেএর পালন ব্যাপক ভাবে বেড়েছে। অনেক পোলট্রি খামার মালিক পোলট্রি খামার করে দিনের পর দিন লোকসান খেয়ে আর্থিক অনাটনে ভুগছিলেন।এখন তারা কোয়েল পাখি পালন করে স্বাবলমী হয়েছেন। সদরে প্রায় ৩০টি খামার মালিক কোয়েল পাখি পালন করছেন। কাটিয়ার মামুনুর রশিদ, মুনজিতপুরের সৈকত, পুরাতন সাতক্ষীরার পুুস্প কোয়েল ফার্ম , লাবসার মনিরুল, চুকনগরের বাপ্পি,দেবহাটার আব্দুল্লাহ, চন্দ্রবিন্দু ফ্যাশনের আযম,বাবুলিয়ার আতাউর রহমান কোয়েল পাখি চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এছাড়া জেলায় শতাধিক খামার মালিক কোয়েল পাখি পালন করছেন।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, তিনি প্রতিদিন খুচরা ও পাইকারি হিসেবে ৫থেকে ৬ হাজার ডিম বিক্রি করেন।তার কাছ থেকে রাজধানী সহ বিভন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসেন কোয়েল পাখির ডিম কিনতে।তিনি কোয়েল পাখির বাচ্চাও বিক্রি করেন। বার্ডফ্লু ও অন্যন্য রোগের প্রার্দুভাব না থাকায় সারকার থেকে ফ্রি জীবানুনাশক ভিটামিন ঔষধ সরবারহ করা হচ্ছে। তিনি কোয়েল পাখি পালন করে এবারের বানিজ্য মেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন। অন্য জেলা থেকে বাচ্চা আমদানি না করে তিনি নিজে বাঁচ্চা উৎপাদন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।তিনি আরও বলেন, একটি পোল্ট্রির জায়াগায় ৫-৬ টি কোয়েল পাখি পালন করা যায়। তাছাড়া একটি পোল্ট্রি দিনে ১২০গ্রাম খাবার খায় সেখানে একটি কোয়েল পাখি দিনে ২০ গ্রাম খাবার খায়। অন্য পাখির স্থলে কোয়েল পাখি পালন সবচেয়ে লাভজনক বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

ইসলামী ব্যংকে কর্মরত অহিদুজ্জামান বলেন, কোয়েল পাখি পালন লাভজনক ব্যাবসা।তিনি ৩০০টি কোয়েল পাখি পালন করেছেন। অন্যন্য পাখি পালন করার চেয়ে কোয়েল পাখি পালনে বেশি লাভজনক বলে তিনি জানান।

জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের উপপরিচালক ডা: শিশির কুমার জানান, আমাদের দেশে কোয়েল পাখি বিশ বছর আগে থেকে পালন করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলায় এটি পালন হচ্ছে অনেক পরে। বার্ডফ্লু ও অন্যন্য রোগের প্রাদুভাব না থাকায় জেলা শহরে কোয়েল পাখি বেশি পালন করা হচ্ছে। তাছাড়া কোয়েল পাখির ডিম প্রেটিন সমৃদ্ধ ও খাদ্যমানে এর অনেক গুন রয়েছে। কোয়েল পাখির ডিমে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেইএবং কোলস্টোরলের মাত্রা খুবই কম। কোয়েল পাখির ডিম বাচ্চাদের জন্য খুবই প্রোটিন সমৃদ্ধ। তিনি আরও বলেন হাঁস মুরগীর একটি ডিমে যেমন প্রোটিন কোয়েল পাখির ডিম ছোট হলেও সমপরিমান প্রোটিন রয়েছে।

No comments:

Post a Comment