Tuesday, August 9, 2016

কোয়েল পালন - যশোর শহরতলির চাঁচড়া বাবলাতলায় তরুণ ফারুক

য়েল ফারুক || তার নাম এখন কোয়েল ফারুক তার নাম এখন কোয়েল ফারুকধারকর্জের ১৫০০ টাকায় খাঁচা তৈরি করে ৩০০ কোয়েল পাখির বাচ্চা নিয়ে স্বপ্নের খামার গড়ে তোলে ফারুক। এখন তার ইনকিউবিটরে সপ্তাহে ১২০০ বাচ্চা ফুটছে। যশোরের অজপাড়াগাঁয়ের ফারুককে এখন না খেয়ে থাকতে হয় না ফখরে আলম, যশোর থেকে ফারুক এখন জিন্স পরে। তার সব রাতই জোছনায় ভরা। অভাবের কালরাত ডিঙিয়ে সে আলোর পৃথিবী আবিষ্কার করেছে। কোয়েল পাখি তার এই আবিষ্কারের চাবিকাঠি। এ কারণে ফারুক কোয়েলের সঙ্গে ঘুমায়। পাখিদের ভালোবাসে। কোয়েলের ব্যবসার আয়ের ৫০০ টাকার নোট গোনে। ভাই-বোনের পড়ার খরচসহ সংসারের সব খরচ নিজেই বহন করে। বছর পাঁচেক আগে ধারকর্জের ১৫০০ টাকার পুঁজি নিয়ে যশোর শহরতলির চাঁচড়া বাবলাতলায় তরুণ ফারুক সাজানো বাগানের মতো গড়ে তুলেছিল গোল্ডেন কোয়েল চাষ প্রকল্প। এই প্রকল্প তাকে বাঁচিয়েছে। পুরো পরিবারকে শিক্ষার আলো দিয়েছে। এ কারণে অনেকেই তার কোয়েল পাখির খামার দেখতে আসে। পিঠ চাপড়ে বাহবা দেয়। ফারুকরা ছয় ভাই-বোন। বাবা তোফাজ্জেল হক সংসারবিবাগী। যশোর নাইট স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ফারুক। অভাবের ভয়ংকর চেহারা সে খুব কাছ থেকে দেখেছে। বইখাতা কেনার টাকা ছিল না। স্কুল-কলেজের বেতন ছিল না। তিন বেলা খাওয়াও জুটত না। পড়ায় মন বসত না ফারুকের। তার পরও সে অষ্টম শ্রেণীর কৃষিশিক্ষা বই মুখস্থ করেছিল। এই বই পড়ে সে কোয়েল পাখির লালন-পালন সম্পর্কে জানতে পারে। ২০০৫ সালে ধারকর্জের ১৫০০ টাকায় খাঁচা তৈরি করে। এরপর ৩০০ কোয়েল পাখির বাচ্চা বাকিতে কিনে স্বপ্নের খামার গড়ে তোলে। এরপর ফারুক আর পেছনে ফিরে তাকায়নি। কোয়েল পাখি নিয়ে স্বপ্নের বাসা বুনেছে সে। তার এ আয়োজন দেখে একপর্যায়ে মামা আশরাফ এগিয়ে আসেন। তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ফারুক নিজে নিজে তৈরি করে একটি ইনকিউবিটর মেশিন। এখন তার ইনকিউবিটরে সপ্তাহে ১২০০ বাচ্চা ফুটছে। মাসে ফুটছে পাঁচ হাজার বাচ্চা। এক দিনের প্রতিটি বাচ্চা ফারুক বিক্রি করছে ছয় টাকায়। তার নিজের ৬০০ প্যারেন্টস কোয়েল রয়েছে। এই পাখির ডিমেই বাচ্চা হচ্ছে। সেই বাচ্চা যশোরসহ খুলনা, সাতক্ষীরার খামারমালিকরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি ডিম আর খাওয়ার জন্য এক মাস বয়সের কোয়েল বিক্রি করছে প্রতিটি ৩০ টাকা। এভাবেই ফারুক সামনে এগিয়ে চলেছে। প্রতি মাসে সব খরচ বাদে তার নিট আয় ১৫ হাজার টাকা। এই টাকায় সে নিজে যশোর কলেজে পড়ছে। এক বোনকে মেডিক্যালে, দুই বোনকে কলেজে পড়ানো ছাড়াও অন্য ভাই-বোনদের লেখাপড়া শেখাচ্ছে। সংসারে হাসি ফিরিয়ে এনেছে। এ কারণে ফারুকের নাম এখন কোয়েল ফারুক। ফারুক বলল, আমাদের সব অভাব দূর করেছে কোয়েল। আমার দেখাদেখি কোয়েলের চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছে। ভবিষ্যতে গোল্ডেন কোয়েল চাষ প্রকল্পের সম্প্রসারণে ফারুকের ভাবনা রয়েছে। সে বলে, কোয়েলের মাংস ও ডিম হার্ট ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

No comments:

Post a Comment