আড়াইহাজার উপজেলায় কোয়েল পাখির খামার করে স্বাবলম্বি হয়েছেন দু’ভাই। তাদের
সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা। করেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। সবমিলিয়ে দুভাইয়ের
জীবনে স্বাচ্ছন্দ এনেছে কোয়েল পাখি। উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী
গ্রামে ঢোকার মুখেই মায়ের দোয়া কোয়েল খামারটি অবস্থিত। খামারের মালিক
দু’ভাই। বড় ভাই বাবুল হোসেন (৪৪) ও ছোটভাই ইকবাল হোসেন (৪২)। পৌষের কোন এক
বিকেলে কথা হয় তাদের সাথে। মুরগীর খামারে লোকসান করে কিভাবে কোয়েলের খামার
গড়লেন সেই গল্প বললেন দুভাই।
প্রথমে তারা ব্রয়লার মুরগীর খামার
করতেন। বড় ধরনের লোকসানের কারণে মুরগীর খামার বন্ধ করে দেন। ব্রাহ্মন্দী
ইউনিয়নের প্রভাকরদী এলাকায় ২০০৯ ইং সালে পাঠান সাহেব নামে কুমিল্লার এক লোক
কোয়েল এর হ্যাচারী করেন। এই পাঠান সাহেবের কাছ থেকেই কোয়েল পালনের নিয়ম
কানুন শিখেছেন বাবুল হোসেন। প্রথমে একটি সমবায় সমিতির মাধ্যমে তিনি কোয়েলের
খামার করেছিলেন। কিছুই জানতেন না। ফলে প্রথম দফায় তাকে লোকসান গুণতে হয় ৩২
হাজার টাকা। মোট পূঁজি ছিল ৬৫ হাজার টাকা। একটি টিনসেড এ ৪ টি খাঁচায় ১৮০০
টি কোয়েল পাখি নিয়ে খামার শুরু করার পর্বটি ছিল হতাশা ও লোকসানের।
বাবুল হোসেন বলেন , ২০১১ ইং সালের জুলাই
মাসে আবার নতুন করে খামার শুরু করি। এবার ভাল করে সবকিছু জেনে নিয়ে ৩
হাজার নতুন পাখি কিনি। খাঁচাতো আগেই ছিল। চার স্তর বিশিস্ট ৮ টি খাঁচায়
পাখি গুলোকে পচিশ দিন পোষার পর ডিম দিতে শুরু করে। আমরা সাধারণত ৩০ দিন
বয়সের বাচ্চা এনে খামার শুরু করি। নিয়মিত খাবার খাইয়ে একমাস পালনের পর
একযোগে কোয়েল গুলো ডিম দিতে শুরু করে। তিন হাজার কোয়েল দিনে কম করে হলেও ২
হাজার ২’শ ডিম দেয়। প্রথমবার এত ডিম দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠে। সকল কষ্ট
ভুলে গিয়ে খামারের দিকে আরো মনযোগী হই। আমরা দুভাই মিলে ১ হাজার ১’শ করে
কোয়েলের ডিম প্লাস্টিকের বাস্কেটে ভরে রাখি। আবার কমলার বাস্কেটে ও ডিম
রাখি। ডিম বিক্রি নিয়ে কোন ঝামেলা পোহাতে হয়না। ঢাকা থেকে পাইকাররা এসে ডিম
নিয়ে যায়। প্রতি সপ্তাহে কোন পাটি ১০ হাজার আবার কোন পার্টি ৬ হাজার ডিম
কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয় ক্ষুদে ব্যবসায়ীরাও ডিম কিনে নেয়। পাইকারী প্রতি
পিস ডিমের মূল্য ১ টাকা নব্বই পয়সা। স্থানীয়ভাবে প্রতি পিস বিক্রি করি ২
টাকা।
মায়ের দোয়া কোয়েল খামার করে বাবুল হোসেন
ও ইকবাল হোসেন এর প্রতিমাসে ভাল উপার্জন হয়। বাবুল হোসেন ও ইকবাল হোসেন
জানান , ‘প্রতিদিন ১৫০০ করে ডিম দেয় কোয়েল গুলো। সে হিসেবে মাসে আমরা ৪৫
হাজার ডিম পাই। প্রতি পিস ২ টাকা করে হলে মাসে ৯০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি
করি। কোয়েলের খাবার এবং ঔষধ বাবদ খরচ হয় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। এই খরচ
বাদ দিয়ে কোন মাসে ৩০ হাজার টাকা আবার কোন মাসে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। কোন
কোন মাসে ৩৫ হাজার টাকা ও আয় হয়। ডিম নষ্ট হলে আয় কমে যায়। যাই হোক এই
খামারের আয় দিয়ে আমাদের দু’ভাইয়ের ৮ সদস্যের সংসার বেশ ভালভাবেই চলে।
সংসারে কোন অভাব অনটন নেই। প্রথমে লোকসান হলেও এখন অবস্থা ভাল।
বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট :
কোয়েল পাখির খামার দু’ভাইয়ের সংসারেই
শুধু স্বাচ্ছন্দ আনেনি। দুর করেছে জ্বালানী সংকট। কোয়েলের বিষ্ঠাকে
ব্যবহার করে বাড়ীতে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট বসিয়েছেন বাবুল হোসেন। ৩০ হাজার
টাকা ব্যায়ে মাঝারি আকারের বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট থেকে প্রচুর গ্যাস পাওয়া
যায়। রান্না ঘরে গিয়ে দেখা গেল ডাবল বার্নারের চুলা জ্বলছে । বাবুল হোসেনের
স্ত্রী রাতের খাবারের আয়োজন করছেন। গ্যাসের চাপ প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে
বেশি। ইদবারদী এলাকায় গ্যাস ছিলনা। এবার গ্যাস যাচ্ছে। কিন্তু বাবুর হোসেন
জানালেন , তাঁর তিতাসের গ্যাস প্রয়োজন নেই। তাদের বাড়ির চাহিদা পুরন হয়েও
প্রচুর গ্যাস অপচয় হয় বলেও জানান। তবে তারা আরো ২/৩ বাড়িতে এ বায়ুগ্যাস
দেওয়ার চিন্তা করছে বলেও বাবুল হোসেন জানান।
কোয়েল পাখি সঠিক পদ্ধতিতে পালন করতে
পারলে লোকসানের কোন আশংকা নেই। এর সবকিছুই লাভ জনক। ডিম লাভজনক। বিষ্ঠা
ফেলনা নয়। বিষ্ঠা দিয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করা যায়। ডিম পাড়া শেষ হলে
পুরনো পাখি হোটেল মালিকরা কিনে নেয় মাংসের জন্য। বিশেষ করে সিলেট এলাকার
হোটেল মালিকদের কাছে কোয়েলের মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
No comments:
Post a Comment