রাত পোহালেই ঈদ। ঈদকে সামনে রেখে
নারিকেলের কদর বাঙালির নিকট চিরচেনা। আর এ কদরকে পুঁজি করে রাজধানীতে
ব্যবসায়ীরা রমরমা ব্যবসা করে নিচ্ছে। এতে বাদ যাচ্ছেন না মৌসুমী
ব্যবসায়ীরাও।
ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা
যায়, রোজার ঈদের সময় নারিকেলের কদর সবচেয়ে বেশি। বাড়িতে পিঠা পায়েসসহ
অন্যান্য খাবারে নারিকেলের ব্যবহারে কমতি নেই। সেই সঙ্গে নারিকেলের লাড়ু তো
রয়েছেই। সব মিলিয়ে এ সময়ে নারিকেলের কদর বেশ।
নারিকেলের পাইকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে
আলাপকালে তারা জানান, দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে নারিকেল আসে রাজধানীর
পুরান ঢাকার ওয়েজঘাটে। সেখান থেকে নারিকেল নিয়ে রাজধানীর বিভিন্নপ্রান্তে
বিক্রি করে খুচরা ব্যবসায়ীরা।
বরিশাল ট্রেডার্সের সত্ত্বাধিকারী ও
পাইকারী নারিকেল ব্যবসায়ী রিপন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের এখানে মানভেদে প্রতি
১০০ নারিকেল ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
তিনি বলেন, ‘ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীতে
নারিকেলের চাহিদা বেশ। এসব নারিকেল নোয়াখালী, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার,
কুতুবদিয়া, মহেশখালী, সেন্টমার্টিন, বাঁশখালী, বরিশাল, ভোলা, খুলনা,
সুন্দরবন অঞ্চলসহ থেকে আসে।’
এদিকে রাজধানীর খিলগাঁও, মালিবাগ,
শান্তিনগরসহ কয়েকটি খুচরা বাজারগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি ছোট ধরনের
নারিকেল ৪০ টাকা থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি নারিকেল ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা এবং বড়
ধরনের নারিকেল ৭০ টাকা থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খিলগাঁও বাজারে নারিকেল বিক্রিতা জাহেদ
আলী জানান, বছরের সবচেয়ে বেশি নারিকেল বিক্রি হয় রোজার ঈদে এবং পূজায়। এ
দুই সময়ে নারিকেলের দামও থাকে বেশি। বিশেষ করে পূজার সময় নারিকেলের চাহিদা
অনুযায়ী যোগান দেয়া যায় না। তবে রোজার ঈদের চাহিদা থাকলেও আমদানি বেশ তাই
ঘাটতি হয় না।
প্রতিবছর নারিকেল বিক্রি করে যে লাভ হয় তা দিয়ে তার পুরো বছরের ব্যবসা খরচ চলে বলে জানান তিনি।
মালিবাগ রেলগেইট এলাকার চিড়া, মুড়ি, মিঠাই
ও নারিকেল ব্যবসায়ি হাফিজ উদ্দিন জানান, আমরা প্রতিটি নারিকেল ছোট বড়
মিলিয়ে ২০ থেকে ৩০ টাকায় কিনতে হয়। পরে ছোট, মাঝারী ও বড় নারিকেল আলাদা
করে বিক্রি করি।
তিনি বলেন, ‘৩০ টাকায় যে নারিকেল পাইকারি
কেনা তা পরিবহন খরচসহ ৪০ টাকা পড়ে। আবার তিন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে বিক্রি
করলে প্রতি নারিকেলে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা লাভ করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘রোজার সময় নারিকেল বেশি
বিক্রি হলেও বছরের অন্যান্য সময় তেমন বিক্রি হয় না।’ এদিকে নারিকেলের
মৌসুমী ব্যবসায়ী আজিজ হোসেনের সঙ্গে কথা হয় মতিঝিল এজিবি কলোনিতে। তিনি
সিজনাল ব্যবসা করেন। যখন যে পণ্যের চাহিদা তাই বেচাকেনা করেন তিনি। একটি
ভ্যানের মাধ্যমে নারিকেল নিয়ে ঘুরে বিক্রি করতে দেখা গেছে তাকে।
তিনি বলেন, ‘১০ হাজার টাকা নিয়ে এবার
নারিকেল ব্যবসা শুরু করেছি। যা বিক্রি শেষে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ হবে।
তবে তিনি নারিকেল বিক্রি করেন অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম দামে।’ প্রতিটি ছোট
নারিকেল ৩৫ টাকায়, মাঝারি নারিকেল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকায়, বড় নারিকেল
সর্বোচ্চ ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।
No comments:
Post a Comment