Sunday, August 7, 2016

প্যাকেজিং ব্যবসা

গ্রাম বা শহর সব জায়গার শাড়ি, জুতা, মিষ্টি, খাবার প্রভৃতির দোকানে প্যাকেট দরকার হয়। ভালো প্যাকেজিং ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সম্ভব হয় না। উন্নতমানের প্যাকেজিং বাক্স তৈরি করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী বাজারজাত এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট ব্যবহৃত হয়। যেমন- শাড়ির বাক্স, জুতোর বাক্স, মিষ্টির বাক্স, বিরিয়ানীর বাক্স ইত্যাদি। মোটা, শক্ত কাগজ দিয়ে এসব প্যাকেট তৈরি করাকে প্যাকেজিং বলা হয়।

বিভিন্ন ধরনের পণ্য সামগ্রী বাজারজাত এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেট ব্যবহৃত হয়। যেমন- শাড়ীর বাক্স, জুতোর বাক্স, মিষ্টির বাক্স, বিরিয়ানীর বাক্স ইত্যাদি। মোটা, শক্ত কাগজ দিয়ে এসব প্যাকেট তৈরি করাকে প্যাকেজিং বলা হয়।

  •  বাজার সম্ভাবনা 
  •  মূলধন 
  •  প্রশিক্ষণ 
  •  প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান 
  •  প্যাকেট তৈরির নিয়ম 
  •  আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ 
  •  সচরাচর জিজ্ঞাসা 
বাজার সম্ভাবনা 
গ্রাম বা শহর সব জায়গার শাড়ী, জুতা, মিষ্টি, খাবার প্রভৃতির দোকানে প্যাকেট দরকার হয়। ভালো প্যাকেজিং ছাড়া  ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতি সম্ভব হয় না। উন্নত মানের প্যাকেজিং বাক্স তৈরি করে দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করা যেতে পারে।
  • মূলধন 
    আনুমানিক ৮০০-৮৫০ টাকার স্থায়ী উপকরণ ও ১৬০০-২০০০ টাকা কাঁচামাল নিয়ে ছোট আকারে প্রাথমিকভাবে প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করা যেতে পারে। প্যাকেজিং ব্যবসা শুরু করতে যদি নিজের কাছে প্রয়োজনীয় পুঁজি না থাকে তাহলে স্থানীয় ঋণদানকারী ব্যাংক (সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক , রূপালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক)বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, ব্রাক, প্রশিকা) থেকে শর্ত সাপেক্ষে স্বল্প সুদে ঋণ নেয়া যেতে পারে। 

    প্রশিক্ষণ 
    প্যাকেজিং ব্যবসাতে প্যাকেট তৈরি প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কপোর্রেশন (বিসিক)-এর স্থানীয় নকশা কেন্দ্রে যোগাযোগা করা যেতে পারে। এখানে ৩ মাস মেয়াদী কোর্স ব্যবস্থা চালু আছে।

    প্রয়োজনীয় উপকরণ, পরিমাণ, মূল্য ও প্রাপ্তিস্থান 
  • স্থায়ী উপকরণ 
উপকরণ  
 পরিমাণ 
আনুমানিক মূল্য (টাকা) 
প্রাপ্তিস্থান 
কড়াই
১ টি
২০০-২০৫
তৈজসপত্রের দোকান
চুলা
১ টি
১৫০-১৬০
মাটি দিয়ে বানিয়ে নেয়া যেতে পারে
স্কেল
১ টি
৩০-৩২
স্টেশনারী দোকান
গামলা
১ টি
৮০-৮৫
তৈজসপত্রের দোকান
কাঁচি
১ টি
১০০-১০৫
স্টেশনারী দোকান
বাটি
১ টি
৩০-৩৫
তৈজসপত্রের দোকান
ব্রাশ(কাঠ)
১ টি
৩০-৩৫
স্টেশনারী দোকান
খুনতি
১ টি
৪০-৪২
তৈজসপত্রের দোকান
চৌকি
১ টি
১৫০-১৫৮
কাঠের দোকান
                                          মোট=৮১০-৮৫০ টাকা


  • কাঁচামাল  
উপকরণ  
 পরিমাণ 
আনুমানিক মূল্য (টাকা) 
প্রাপ্তিস্থান 
বোর্ড কাগজ (শক্ত মোটা কাগজ)
৫০০ শীট
১২০০-১২৫০
কাগজের পাইকারী দোকান
সাদা কাগজ (পাতলা)
৫০০ শীট
২২০-২৪০
কাগজের পাইকারী দোকান
লাল/রঙিন কাগজ
১৫০ শীট
১০০-১১০
কাগজের পাইকারী দোকান
আঠা
আনুমানিক
৩৫-৪০
হার্ডওয়ারের দোকান
মোট= ১৫৫৫-১৬৪০ টাকা
তথ্যসূত্র : মাঠকর্ম, নীলক্ষেত, ঢাকা, অক্টোবর ২০০৯।

প্যাকেট তৈরির নিয়ম 
  • জুতার প্যাকেট তৈরির নিয়ম 
  1. জুতার বাক্সের সাইজ অনুযায়ী শীটগুলো কাগজ কাটার মেশিন দিয়ে কেটে নিতে হয়।
  2. এরপর এগুলো ক্রিজ মেশিন দিয়ে ভাঁজ করা হয়।
  3. ভাঁজ করা অংশগুলো আঠা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়।
  4. বাক্সের দুইটি অংশ থাকে বাক্স এবং তার ঢাকনা।
  5. জুতার বাক্সগুলো সাধারণত একই সাইজের হয়ে থাকে। তবে বাচ্চাদের জুতার বাক্সগুলো আকারে ছোট হয়ে থাকে।
  6. বাক্সের বাইরের খসখসে অংশটুকু রঙ্গীন কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়।

  • মিষ্টির প্যাকেট তৈরির নিয়ম 
  1. মিষ্টির বাক্স তৈরির ক্ষেত্রে নরম বোর্ড দিয়ে বাক্স তৈরি করা হয়।
  2. মিষ্টির বাক্সের আকার অনুযায়ী শীটগুলো কাগজ কাটার মেশিন দিয়ে কাটতে হয়।
  3. এরপর ক্রিজ মেশিন দিয়ে ভাঁজ করা হয়।
  4. কাটা অংশগুলো এরপর আঠা দিয়ে জোড়া লাগানো হয়।
  5. বাক্সের দুইটি অংশ থাকে। বাক্স এবং তার ঢাকনা।
  6. মিষ্টির ওজন অনুযায়ী বাক্সের সাইজ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে।
  7. বাক্সের বাইরের খসখসে অংশটুকু বিভিন্ন রঙের কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়।

  • সাবধানতা 
হাতে গ্লাভস/দস্তানা ব্যবহার করতে হবে। কাগজ কাটার সময় ভালোভাবে মেপে কাগজ কাটতে হবে যেন কাগজ নষ্ট না হয়।

আনুমানিক আয় ও লাভের পরিমাণ

  • খরচ 
খরচের ক্ষেত্র
আনুমানিক মূল্য (টাকা)
দৈনিক কাঁচামাল বাবদ খরচ
১৫৫৫-১৬৪০
স্থায়ী উপকরণের অবচয়(ক্ষতি) বাবদ খরচ
৩-৪
যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ
৫০-৬০ 
২ জন শ্রমিক বাবদ খরচ
৪৪০-৪৮০
শীট গুলো কাটানোর খরচ বাবদ
২০০-২৫০
                                 মোট=২২৪৮-২৪৩৪ টাকা
তথ্যসূত্র : মাঠকর্ম, নীলক্ষেত, ঢাকা, অক্টোবর ২০০৯।
  • আয় ও লাভ 
৫০০ শীট  দিয়ে আনুমানিক ১২০০ প্যাকেট তৈরি করা যায়। প্রতিটি বাক্সের বিক্রি মূল্য ২.৫০ টাকা হলে ১২০০ প্যাকেটের বিক্রি মূল্য ৩০০০ টাকা। ১২০০ প্যাকেট তৈরি খরচ আনুমানিক ২৪০০ টাকা হলে লাভ হতে পারে আনুমানিক ৬০০ টাকা।
তথ্যসূত্র : মাঠকর্ম, নীলক্ষেত, ঢাকা, অক্টোবর ২০০৯।

যে কোন ব্যক্তি এই প্যাকেজিং ব্যবসা করে সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা 
প্রশ্ন ১ : প্যাকেজিং ব্যবসা কি? 
উত্তর : শাড়ী, জুতা, মিষ্টি,বিরিয়ানী, অন্যান্য খাবার বা মালামালের জন্য মোটা, শক্ত প্যাকেট তৈরি ব্যবসাকে প্যাকেজিং ব্যবসা বলা হয়।
প্রশ্ন ২ : প্যাকেজিং ব্যবসায় কি  পরিমাণ মূলধন লাগে ? 
উত্তর : আনুমানিক ২০০০ টাকার মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
প্রশ্ন ৩ : প্যাকেজিং ব্যবসা কোন সময়ে ভালো চলে ?  
উত্তর : সারাবছরই প্যাকেটের চাহিদা আছে। তবে উৎসব-এর সময় এর চাহিদা দ্বিগুন হয়।
 

No comments:

Post a Comment