মেহেরপুরে বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখির চাষ
হচ্ছে। বাজারে চাহিদা থাকায় ও লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় চাষীরা বর্তমানে
বাণিজ্যিকভাবে কোয়েল পাখির চাষ করছেন। অল্প পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে অনেকে
বাজারে কোয়েল পাখি ও সিদ্ধ ডিম বিক্রি করেও সংসার চালাচ্ছেন।
মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাঁশবাড়িয়া,
শিশিরপাড়া, নওয়াপাড়া, সদর উপজেলার কোলা গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রামে এ পাখির
চাষ শুরু হয়েছে। কোয়েল চাষীদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেহেরপুরে কোন
হ্যাচারি না থাকায় তাদের যশোর অঞ্চল থেকে কোয়েল পাখির বাচ্চা কিনে আনতে হয়।
প্রতিটি বাচ্চা আট টাকা দরে কিনে নেয়ার ২২ দিন পর মাংশ খাওয়ার উপযুক্ত হয়ে
ওঠে। তখন থেকে কোয়েল বিক্রি করা হয়।
৪২ দিনের এ পাখি ডিম দেয়া শুরু করে এবং
টানা ১৮ মাস ডিম দেয়। ওই সময় পাখির খোরাক কমে যায়। কোয়েল পাখির মাংশ
সুস্বাদু হওয়ায় মেহেরপুরের বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। খামারে প্রতিটি পাখির
দাম ২৭ টাকা থেকে ৩০ টাকা হলেও বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকা জোড়া।
অনেকে খাঁচাসহ চারটি পাখি বিক্রি করছে দু’শ থেকে আড়াই শ’ টাকায়।
সদর উপজেলার কোলা গ্রামের কোয়েল চাষী রেজা
বলেন, যশোর থেকে পাঁচ’শ পাখির বাচ্চা এনে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করি। লাভ
পেয়েছি; তাই আস্তে আস্তে খামার বড় করার ইচ্ছা আছে। যশোর থেকে কিনে আনা
বাচ্চার শতকরা ৯০ ভাগ বেঁচে থাকে। মেয়ে পাখি ডিম দেয়া শুরু করলে একটানা
পাঁচ’শ পর্যন্ত ডিম দেয়। তবে কোয়েল পাখি খামারে বাচ্চা ফুটাতে পাওে না। তাই
তার ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে কোয়েল পাখির হ্যাচারি করার।
তিনি আরও জানান, পাঁচ’শটি পাখি ছয় দিনে ৫০
কেজি খাবার খায়। প্রতি কেজি খাবারের দাম ৩০ টাকা। এ পাঁচ’শ পাখির জন্য
প্রতিদিন আড়াই’শ টাকার খাবার লাগে। তিনি আরও জানান, কোয়েলের মাংশ ও ডিম
সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এ পাখির চাহিদা আছে। প্রতিটি ডিম খামার থেকে বিক্রি
হয় দেড় টাকায়।
শহরের গোরস্থানপাড়ার হাফেজ মোঃ শহিদুল
ইসলাম বর্তমানে কোয়েল পাখির ব্যবসা করছেন। তিনি জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে
শহরে কোয়েল পাখির ব্যবসা করছি। গাংনীর নওয়াপাড়া থেকে কোয়েল পাখি কিনে আনি।
৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা জোড়া বিক্রি করি। মাংশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায়
ক্রেতাদের এ পাখির যথেষ্ঠ চাহিদা আছে।
খুলনার ওলিয়ার রহমান যশোর থাকেন। তিনি
যশোর থেকে কোয়েল পাখি কিনে এনে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা এলাকায় ফেরি করে বিক্রি
করেন। তিনি বলেন, দু’দিন অন্তর যশোর যাই এবং খামার থেকে পাখি কিনে আনি।
খাঁচায় ভরে চারটি পাখি বিক্রি করি দুই’শ থেকে আড়াইশ’ টাকায়। তিনি আরও বলেন,
মেহেরপুরে কোয়েল পাখির চাষ হয় কিনা তা তার আগে জানা ছিল না। এখন থেকে তিনি
মেহেরপুরের খামার থেকে কোয়েল কিনে এ এলাকায় ব্যবসা করবেন।
মেহেরপুর শহরে বেশ কয়েক জন কিশোর সিদ্ধ ডিম ফেরি করে বিক্রি করে। তারা জানায়, কোয়েল পাখির ডিমের চাহিদা বেড়েছে।
মেহেরপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা
ডাক্তার শশাঙ্ক কুমার মন্ডল বলেন, এ জেলায় কোয়েল পাখির চাষ হচ্ছে।
বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এ চাষ করে লাভবান হওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত উঁচু অঞ্চল
হিসেব এ জেলা পোল্টি চাষের উপযুক্ত জেলা।
তিনি আরও জানান, কোয়েল পাখি পোল্টির মধ্যে
পড়ে। কোয়েল পাখির রোগ-বালাই খুবই কম হয়ে থাকে। তারপরও পরজীবী রোগ যেমন
রক্ত আমাশা, সর্দি-কাশি, গুটি বসন্ত ইত্যাদি রোগ হতে পারে। খাদ্যে ছত্রাকের
কারণে বিষ ক্রিয়ায় পাখি মারা যেতে পারে। এরপরও খামার পরিচর্যা তথা
পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে ঐসব রোগ কম হবে। তিনি আরও বলেন, রোগ প্রতিশোধক
ওষুধ সরকার সরবরাহ করলেও রোগ হলে সরকারিভাবে চিকিৎসার জন্য কোন ওষুধ সরবরাহ
করা হয় না। তাই রোগ প্রতিরোধের জন্য কোয়েল চাষিদের আগেভাগে প্রাণী সম্পদ
অফিসের সাথে যোগাযোগ উচিত হবে।
No comments:
Post a Comment