Tuesday, August 9, 2016

নব উদ্ভাবিত ইনকিউবেটর মেশিন পোল্ট্রি শিল্পকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে

বাংলাদেশের যে কয়টি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত রয়েছে, পোল্ট্রি শিল্প এদের মধ্যে অন্যতম। দেশের ভয়াবহ বেকারত্ব দূরীকরনে এ শিল্প গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রাখছে। লাখ লাখ বেকার যুবক এ শিল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে। সারাদেশের ন্যায় সাতক্ষীরায়ও এই শিল্পের প্রসার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এগিয়ে আসছে উদ্যমী তরুণরা। এদেরই মধ্যে একজন সফল ব্যক্তিত্ব সাতক্ষীরার অমল বিশ্বাস। পোল্ট্রি ব্যবসার পাশাপাশি এ শিল্পের অতি প্রয়োজনীয় বাচ্চা উৎপাদনের জন্য স্বল্প মূল্যের একটি ইনকিউবেটর যন্ত্র তিনি আবিষ্কার করেছেন। এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে তার তৈরিকৃত এমেশিন দ্বারা সহজ পদ্ধতিতে ও আর্থিক সাশ্রয়ে ডিম হতে বাচ্চা তৈরি সম্ভব হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা শহরের পলাশপোল এলাকার অনীল বিশ্বাস এর ছেলে অমল বিশ্বাস মূলত একজন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক। তিনি এক বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সম্প্রতি একটি ইনকিউবেটর মেশিন আবিষ্কার করেছেন। মেশিনটি তৈরি করতে তার খরচ হয়েছে ৫২ হাজার টাকা। এর মাধ্যমে এক সাথে ২৮২৮টি ডিম থেকে বাঁচ্চা তৈরি সম্ভব। এই মেশিন দ্বারা যে কোন ধরনের মুরগির ডিম ফুটাতে সময় লাগে ১৮-২১ দিন, হাসের ডিম হলে সময় লাগে ২৮ দিন, কোয়েল কবুতর এর ডিমের জন্য সময় লাগে ১৬ থেকে ১৭ দিন। বাচ্চা উৎপাদনের হার শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ। অমল বিশ্বাস জানান, বর্তমানে পোল্ট্রি ফার্মে বিনিয়োগের তুলনায় লাভ কম। কারণ হিসেবে তিনি পোল্ট্রী খামারে ব্যবহৃত সরজ্ঞামাদীর দাম, চড়া দামে বাঁচ্চা কেনা, খাদ্যের দাম বেশি বলে জানান।পোল্ট্রি শিল্পকে প্রতিযোগিতাই টিকিয়ে রাখতে ১ বছর নিরলস পরিশ্রম করে তিনি এই মেশিন তৈরি করতে সক্ষম হন। এই মেশিনের মাধ্যমে খামারিরা অপেক্ষাকৃত স্বল্প খরচে পোল্ট্রি মুরগিসহ দেশীয় মুরগির বাঁচ্চা উৎপাদন করতে পারবে। এর দ্বারা উৎপাদিত বাঁচ্চার মৃত্যুর হারও কম বলে তিনি জানান। এ মেশিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এই মেশিনে ছেটার ও হিটার এক সাথে রয়েছে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কুলিং ফ্যান রয়েছে। এ মেশিন ব্যবহার করার জন্য দরজা খোলার প্রয়োজন নেই। রয়েছে ডিজিটাল ডিসপ্লে¬ হিটার। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর ব্যবস্থা রয়েছে।মেশিনটির বাজার মূল্য সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারে ৫শত ডিমের ক্যাপাসিটি সম্পন্ন মেশিনের দাম ৫০ হাজার টাকা ও ৩ হাজার ডিমের ক্যাপাসিটি সম্পন্ন মেশিনের দাম ১ লক্ষ টাকা।আর তার উদ্ভাবিত ২৮২৮টি ডিমের ক্যাপাসিটি সম্পন্ন মেশিনের মূল্য ৬০ হাজার টাকা। দেশের সম্ভাবনাময় এ অর্থনৈতিক খাতের প্রসারে অপেক্ষাকৃত স্বল্প মূল্যের এ মেশিনটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি তার উদ্ভাবিত ইনকিউবেটর মেশিনটির বাজার জাতকরনে তিনি সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।

No comments:

Post a Comment