আজম রেহমান,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি,চিলাহাটি ওয়েব : চেষ্টা মানুষকে কতদুর
এগিয়ে নিতে পারে তার অনেক প্রমাণ দেশে বিদেশে পাওয়া যায়। এমনি এক বেকার
যুবক তার নিজস্ব বদ্ধিমত্তায় আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি ছাড়াই কাঠ আর বাশ দিয়ে
ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় কোয়েল পাখির হেচারি গড়ে তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্য কোন খরচ ছাড়াই শুধুমাত্র বৈদ্যুতিক বাল্বের তাপ দিয়ে তিনি মাসে ৮ হাজার বাচ্চা ফুটান। একদিনের বাচ্চা খামারিদের কাছে বিক্রি করেন ১০টাকা হিসেবে। ৩০ দিন বয়সী পুরুষ পাখি বিক্রি হয় ৩০ থেকে ৪০টাকায়। ঐ উপজেলায় তার অনুপ্রেরণায় ১০টি খামার গড়ে ওঠেছে। এসব ছোট ছোট খামারে তিনি বাচ্চা সরবরাহ করেন এবং তাদের উৎপাদিত প্রতিটি ডিম ২ টাকা দরে কিনে নিয়ে ঢাকা দিনাজপুর এবং রংপুরে পাইকারী বিক্রি করেন। স্থানীয় হোটেলে পাখির মাংসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন ৭শ ডিম এবং ৩শ পাখি বিক্রি হয়।
উদ্যোক্তা এই যুবকের নাম মেহেদী হাসান লেনিন। বাড়ি ঠাকুরগাও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্ত গ্রাম আগ্রা-গরিনাবাড়ি। তার নিজ বাড়িতে পুকুর পাড়ে গড়ে তুলেছেন বিরাট কোয়েল পাখির খামার। এখানে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদনের ৬ হাজার পাখি রয়েছে।
আর পীরগঞ্জ শহরের মিত্রবাটি গ্রামে একটি টিনসেড বাড়িতে দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তিনি হেচারি গড়ে তুলেছেন। তার খামারে উৎপাদিত ডিম থেকে এই হেচারিতে তিনি বাচ্চা ফুটান। সম্পূর্ণ নিজস্ব পদ্ধতিতে সামান্য খরচে মাসে ৮ হাজার বাচ্চা ফোঁটে এই হেচারিতে। ডিম ও বাচ্চা বাজারজাত করনের জন্য একই মৌজায় ভাড়া নিয়েছেন একটি গুদাম। সেখানে রাখা ডিম আর বিক্রিযোগ্য পাখি সরবরাহ করা হয় সারাদেশে। সেখানে বিক্রিযোগ্য পুরুষ পাখি পালনও করেন তিনি।
একটি কক্ষে কয়েকটি প্লাস্টিকের ট্রেতে ডিম রেখে সেখানে বৈদ্যুতিক বাল্ব দিয়ে ৯৮ থেকে ১০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় রাখা হয় ১৩ দিন। এরপর আরেকটি কক্ষে তাপমাত্রা কিছু কমিয়ে ২ দিন রাখলেই আপনা-আপনি ডিম থেকে বাচ্চা বেরিয়ে আসে। ডিম থেকে বাচ্চা ফোঁটানোর হার শতকরা ৮৫ভাগ।
তার সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩ বছর আগে এই বেকার যুবক ঢাকার বঙ্গবাজার থেকে ৯৬টি কোয়েল পাখির বাচ্চা ক্রয় করেন। এগুলোকে যত্ন করতে থাকেন। বড় করার পর নিজের চেষ্টায় ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর কৌশল আবিস্কার করেন।
ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন ডিম ও পাখি বিক্রির বাজার। ৬ মাস পর থেকে তিনি সফল হতে থাকেন। গত আড়াই বছরে তিনি ১ লাখ ৫০ হাজার পাখি বিক্রি করেছেন। ডিম বিক্রির হিসেব তার জানা নেই। প্রতিটি পাখি পাইকারী ৩০ টাকা আর প্রতি কেজি ৩শ’ টাকা হারে বিক্রি হয়ে থাকে। আর প্রতিটি ডিম বিক্রি হয় ২ টাকা করে। হাস-মুরগীর ডিমের পাশাপাশি কোয়েল পাখির ডিমও এখন পাওয়া যাচ্ছে শহরের বাজারে এমনকি গ্রাম গঞ্জেও। এখন প্রতিদিন তার গড় আয় ২ হাজার টাকার কম নয়।
লেনিনের দেখাদেখি স্থানীয় অনেকেই কোয়েল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাখি ও ডিম বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করছেন। কেউ কেউ পড়ালেখার পাশাপাশি কোয়েল খামার গড়ে তুলে পড়ালেখার খরচ নির্বাহ করছেন।
ইতোমধ্যে প্রাণি সম্পদ বিভাগে এ খামারীরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সরকারি বেশ কিছু সহায়তা পেয়েছেন। প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তারা নিয়মিত খামার পরিদর্শন করে তাদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
ঠাকুরগাও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) ডা. আব্দুর রহিম বলেন, মেহেদি হাসান লেনিনের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কোয়েল পালন বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অনেকেই এখন কোয়েল পালনে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। অল্প খরচে কোয়েল পালন বেশ লাভজনক এবং ডিম ও মাংশের চাহিদা পূরনেও গুরুত্বূর্পূর্ন ভূমিকা রাখছে বলেও তিনি মনে করেন।
No comments:
Post a Comment