Thursday, July 28, 2016

শেয়ার ব্যবসা - ১: যে ভাবে শুরু করতে পারেন

এক জন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী হিসেবে শেয়ার মার্কেটে আছি ২০০৭ এর শুরু থেকে। কোন প্রকার পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই অনেকটা ঝোকের বশে এখানে ঢুকে পড়ি। বন্ধুর পরামর্শে মাত্র ত্রিশ হাজার টাকায় একটি ব্যাংক শেয়ার কিনে আমার শুরু। প্রথম ২/৩ দিন দাম বাড়লেও এর পর থেকেই মূল্য পতন শুরু হয়। দাম যত পড়ে আমার হতাশা তত বাড়ে। অথচ বাজারে থাকা অন্য ব্যাংকগুল তখন বাড়ছিল। পতনের কারন খুজতে গিয়ে বুঝতে পারলাম এই ব্যবসার অ-আ, ক-খ কিছুই আমি জানিনা। কোন কিছু না জেনে, না বুঝে ধার করা বিদ্যায় ব্যাবসা করলে লোকসান অবসম্ভাবি। এটা আমর সৌভাগ্য যে, শেয়ার বাজারে লাভের আগেই ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায়া আমার টনক নড়েছে। টাকা হারানোর শোক ভুলে তাই শেয়ার বাজার নিয়ে পড়া-লেখা শুরু করি। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে চিন্তাভাবনার করার পাশা পাশি টুকটাক লেখালেখি ও শুর হয়ে যায় এক সময়। আর সবগুল লেখা একত্রিত করার ধারনা থেকেই এই ব্লগের সূচনা।

নেট ঘেটে বিভিন্ন ব্লগ,ওয়েব সাইট, ম্যাগাজিন,পত্রিকা পড়েই ধীরে ধীরে শিখেছি এই বাজারের নিয়ম-কানুন। খুবই কষ্টকর পদ্ধতি, কোথা থেকে শুরু করব- এটা বুঝতেই ৬ মাস লেগেছিল আর রিসোর্সের সল্পতা ত ছিলই। আমাদের শেয়ার বাজারের মূল সমস্যা হল প্রচুর অজ্ঞ বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি, এখানকার ৮০ ভাল লোক শিক্ষিত হলেও তাদের কত জন শেয়ার ও শেয়ার মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান রাখে বা জ্ঞান লাভের চেষ্টা করে তা এক আল্লাহই জানে। এদের বিনিয়োগের ভাব-সাব দেখে মনে হয় না কেউ জানার বা শেখার চেষ্টা করে। এই শিক্ষিত (!) লোক গুলর জন্যই মার্কেটের বেহাল দশা। নিয়ম-নীতির ধার না ধেরে আমাদের মার্কেট তাই উঠা-নামা করে গুজব আর হুজুগের উপর।
তাই ভাবলাম আমি একা স্বশিক্ষিত না হয়ে আমার সীমিত জ্ঞান সবার সাথেই শেয়ার করি। আর এতে যদি কারো নূন্যতম কোন উপকার হয় তবে ক্ষতি কি ? এত কেজি ওয়ান-টু র কোন পাঠ না যে শেয়ার করলেই ক্লাসের অন্য কেউ ফার্স্ট হয়ে যাবে। তাহলে শুরু করা যাক -

প্রথমেই আসুন শেয়ার বাজারের প্রচলিত কিছু টার্মস শিখি-
  • Earning Per Share (EPS): শেয়ার প্রতি আয় - ধরুন কম্পানি ক এর মোট বাৎসরিক আয় ১০০ টাকা এবং মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ টি । সুতরাং শেয়ার প্রতি আয় হল ১০০/১০ = ১০ টাকা । এটি যত বেশি হবে সেই শেয়ার তত বেশি ভাল হলে বিবেচিত হবে।
  • Net Asset Value (NAV): শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ একটি কোম্পানি দুই ধরণের উৎস থেকে তার ব্যবসায়িক মূলধন যোগাড় করে (১) শেয়ার ধারীদের মূলধন ও (২) ধার/ ব্যাংক লোন।  এই মূলধনে অর্জিত সম্পদ থেকে সব ধরনের লোন বাদ দিলে পাওয়ায় যায় নিট সম্পদ। ধরুন কম্পানি ক এর নিট সম্পদ ১০০০ টাকা এবং মোট শেয়ারের সংখ্যা ১০ টি । সুতরাং শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ হল ১০০০/১০=১০০ টাকা । এটা যত বেশি হবে সেই শেয়ার তত ভাল এবং এর দাম ও বেশি হবে।
  • Price Earning Ratio (P/E): কোম্পানির বাজার মূল ও আয়ের অনুপাত। ধরুন কম্পানি ক এর শেয়ার প্রতি আয় ১০ টাকা এবং মার্কেটে চলতি মূল্য ১৪০ টাকা । সুতরাং দাম ও আয়ের অনুপাত হল ১৪০/১০ = ১৪ । এটা যত বেশি হবে সেই শেয়ার বিনিয়োগের জন্য তত বেশি ঝুকিপূর্ণ। সাধারনত এই অনুপাত ২০ এর বেশি হলেই সেই শেয়ারকে ঝুকিপূর্ন ভাবা হয়। শেয়ার কেনার সময় এই অনুপান যত কম হয় ততই ভাল। 
  • Face value : - শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য,এর উপর ভিত্তি করে কোম্পানি ক্যাশ বোনাস ঘোষণা করে। আমাদের বাজারের প্রয় সব শেয়ারের ফেস ভ্যালু এখন ১০ টাকা। 
  • Market value: - চলতি বাজার মূল্য। 
  • The authorized capital: - কোন কম্পানির সর্বোচ্চ মূলধনের পরিমান (আপার লিমিট)। 
  • Paid-Up Capital: শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য/ফেস ভ্যালু অনুযায়ি সকল শেয়ারের মোট মূল্য।

ব্যবসা বানিজ্য সম্পর্কিত পত্রিকা, ডিএসইর নিউজ পড়ুন - শেয়ার বাজারে থাকা কম্পানিগুলর খোজ-খবর এখানেই পাবেন। আর যারা সেকেন্ডারি মার্কেটে যাবেন তারা বিনিয়োগ করার পুর্বেই বাজার পর্যবেক্ষণ করুন এবং আপনার বাজার সম্পর্কিত জ্ঞান কতটা হলা তা যাচাই করুন। বাজারে লেনদেন শুরুর আগে ভার্চুয়াল ট্রেডিং করুন। মানে প্রথমে কাগজে-কলমে কম্পিত টকায় শেয়ার কিনে ২/৩ মাস ব্যাবসা করুন। 

প্রথমেই মনে মনে ধরুন আপনার কাছে ১,০০,০০০ টাকা আছে । এবার আপনার পছন্দের শেয়ার গুল কিনুন (ভার্চুয়ালি) । লাভ হলে বেচুন আর লস হলে বাচার উপায় খুজুন। এই ভাবে ৩-৪ মাস ভার্চুয়াল ট্রেডিং করলেই আপনি বুঝতে পারবেন আসল মার্কেটে আপনার অবস্থা কেমন হবে। এই বাজারে আপনিও মুনাফা করতে সক্ষম এই কনফিডেন্স অর্জিত হলেই নগদ টাকায় ধীরে ধীরে বিনিয়োগ শুরু করুন।

No comments:

Post a Comment