Saturday, July 23, 2016

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমলো

পাঁচ ও তিন বছর মেয়াদি পারিবারিক ও পেনশনসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জারি করা প্রজ্ঞাপনে মেয়াদি বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রে দেড় থেকে দুই শতাংশ হারে সুদের হার কমানো হয়েছে।

সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুদের হার কমানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত ১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে। এনবিআরের একটি সূত্র বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।


এত দিন পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক ও পেনশন সঞ্চয়পত্র কিনলে সরকার ১৩ দশমিক ৪৫ ও ১৩ দশমিক ২৬ শতাংশ হারে সুদ দিত।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে পুনর্নির্ধারিত বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার হলো-

পাঁচ বছর মেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ, পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে সুদের হার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং তিন বছর মেয়াদি  তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


এনবিআর সূত্রে আরো জানা যায়, ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের (পাঁচ বছর মেয়াদি) ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম সমন্বয়পূর্বক মুনাফার হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের সুদের হার অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে উৎসে আয়কর কর্তনের বিধানও বহাল রাখা হয়েছে।

তবে সামাজিক নিরাপত্তা প্রিমিয়াম প্রদানের বিদ্যমান সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে হিসাবের সুবিধার্থে মাসিক/ তিন মাস/ তিন বছর (মেয়াদান্তে)/ পাঁচ বছর (মেয়াদান্তে) মেয়াদি সঞ্চয়পত্রসমূহের মুনাফার পরিমাণ পাঁচ গুণিতক সংখ্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) মোট ২৬ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এই সময়ে আগে কেনা সঞ্চয়পত্রের আসল-সুদ বাবদ ৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।


ফলে সঞ্চয়কারীদের নিট বিনিয়োগ অর্থাৎ সরকারের এ খাতে ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০০ শতাংশ বেশি।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার ৯ হাজার ৫৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরে। তবে আট মাসেই তার দ্বিগুণেরও বেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে।



 

No comments:

Post a Comment